চকবাজার থেকে গুলশান: পাঠাওয়ের নতুন সেবা বদলে দিতে পারে রেস্তোরাঁ ব্যবসার পুরনো সব হিসাব-নিকাশ

অনলাইনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবা এখন পর্যন্ত ঢাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আসা সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি। এটি শুধু মানুষের খাবার কেনার অভ্যাসকে বদলায়নি, বদলে দিয়েছে একটি রেস্তোরাঁ কীভাবে তার ক্রেতা খুঁজবে, কত দূর পর্যন্ত তার ব্যবসা বিস্তৃত থাকবে—সেই হিসাবও। পাঠাওয়ের নতুন ‘ফার অ্যাওয়ে ফেভারিটস’ সেবা সম্ভাবনা তৈরি করেছে সেই পরিবর্তনকেই আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবার।

‘ফার অ্যাওয়ে ফেভারিটস’ হচ্ছে পাঠাও ফুডের এমন একটি সেবা, যার মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি এলাকার বাইরের রেস্তোরাঁ থেকেও খাবার অর্ডার করা যাবে। অর্থাৎ, আপনি যে এলাকায় আছেন, সেই এলাকার কাছাকাছি রেস্তোরাঁতেই আর সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না। এতে অংশ নেওয়া রেস্তোরাঁগুলো এই সুবিধার আওতায় দূরের এলাকাতেও খাবার পাঠাতে পারবে, আর ক্রেতারা পাঠাও ফুড অ্যাপেই সেগুলো দেখে স্বাভাবিক নিয়মে অর্ডার করতে পারবেন।

একটা রেস্তোরাঁর খাবার যতই জনপ্রিয় হোক, এতদিন তার বাজারের একটা অদৃশ্য সীমারেখা ছিল। কারণ অনলাইন ফুড ডেলিভারি সার্ভিসগুলো সাধারণত রেস্তোরাঁকে ঘিরে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যেই কাজ করত। গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকায় পুরান ঢাকার বিখ্যাত বিরিয়ানি, কাবাব ও অন্য খাবারের দারুণ চাহিদা থাকলেও ডেলিভারির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ক্রেতা ছিল, পণ্যও ছিল, শুধু দূরত্বের কারণে গড়ে ওঠেনি মেলবন্ধন।

এখানেই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য হিসাবটা বদলে যেতে পারে। মিরপুরের কোনো তরুণ নিজের তৈরি কোনো খাবার নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে তাকে আর শুধু মিরপুরের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না। তার রান্নাঘর মিরপুরে হলেও ক্রেতা হতে পারেন গুলশান, বনানী বা বারিধারার মানুষ। ফলে অনেক খরচ করে ভালো জায়গায় দোকান নেওয়ার চেয়ে আলাদা কিছু তৈরি করা, স্বাদ ঠিক রাখা এবং নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করা এখন থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শহরের এক প্রান্তের ছোট উদ্যোগও অন্য প্রান্তে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

এর প্রভাব শুধু নতুন রেস্তোরাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কম ভাড়ার এলাকায় ছোট রান্নাঘর রেখে দূরের ক্রেতাদের লক্ষ্য করা সম্ভব হলে ব্যবসার খরচের হিসাবও বদলাবে। বিশেষ কোনো ডিশ, আঞ্চলিক রান্না বা ঘরোয়া কোনো স্বাদ নিয়েও বড় পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব হতে পারে। পুরান ঢাকার পুরোনো কোনো দোকান নতুন করে গুলশানে পরিচিত হতে পারে; আবার মিরপুরের নতুন কোনো উদ্যোগও কয়েক মাসের মধ্যে শহরজুড়ে পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি কোন এলাকায় রেস্তোরাঁ খুললে বেশি লাভ হবে, সেই পুরোনো প্রশ্নের জায়গায় হয়তো নতুন প্রশ্ন আসবে—কোথা থেকে রান্না করলে সবচেয়ে ভালোভাবে পুরো শহরের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো যায়?

সম্ভাবনা অনেক। এখন দেখার বিষয়, এই সেবা ঢাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য প্রকৃত অর্থেই কতটা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে!